রাজস্ব আদায়ে বড় ধস: প্রথম ২ মাসে এনবিআরের ২৯ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১৩-০৯-২০২৬ ০২:৪১:৪৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৩-০৯-২০২৬ ০২:৪১:৪৬ অপরাহ্ন
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও ব্যবসায়িক ধীরগতির প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আহরণে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুমাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার কোটি টাকা। এনবিআরের তিনটি অনুবিভাগের মধ্যে আয়কর খাতে কিছুটা ভালো করলেও কাস্টমস ও ভ্যাটে রাজস্ব আহরণে বড় ধস নেমেছে। ফলে আলোচ্য সময়ে এনবিআরের গড় প্রবৃদ্ধিও নেতিবাচক হয়েছে। এনবিআর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস অর্থাৎ জুলাই-আগস্টে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮১ হাজার ৫৩ কোটি টাকা। এ সময়ে এনবিআর আদায় করেছে ৫১ হাজার ৮৯২ কোটি টাকা। অর্থাৎ দুই মাসে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ১৬১ কোটি টাকা। আর গড় প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে মাইনাস ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ। যদিও করোনা মহমারির সময় শাটডাউন চলাকালেও এ ধরনের নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি ছিল না বলেও জানিয়েছেন খোদ এনবিআরের কর্মকর্তারা।
একাধিক এনবিআর কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরের ভ্যাটের কিছু পলিসির কারণে মাঠ পর্যায়ে রাজস্ব আহরণে কিছু নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে তিন মাস অন্তর অন্তর ভ্যাট রিটার্ন জমার সুযোগ দেওয়ার কারণে অনেক ব্যবসায়ী রিটার্ন জমা দেননি। যার কারণে ভ্যাট আদায়ে এই ধস নেমেছে। আর কাস্টমসে মূলত ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার কারণে প্রবৃদ্ধি তলানিতে রয়েছে। দেশের সবচেয়ে বড় ও প্রধান চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে মনিটরিংয়ে দুর্বলতা, ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের হয়রানি, উল্লেখযোগ্য কোনো ধরণের বড় ডিটেকশন না থাকাসহ কিছু কর্মকর্তাদের কারণে রাজস্ব আহরণে গতি কমেছে। একই সঙ্গে কাস্টম হাউসের দায়িত্বপ্রাপ্ত এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দুর্বলতাও একটি কারণ বলেও জানিয়েছেন কাস্টমসের একাধিক কর্মকর্তা। তবে বছরজুড়ে আয়কর রিটার্ন জমার সুযোগ থাকার কারণে আয়কর খাতের প্রবৃদ্ধির গতি আগের মতো রয়েছে বলেও জানান তারা।
সূত্র আরও জানায়, চলতি অর্থবছরে দুমাসে সবচেয়ে বেশি ১৪ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা ঘাটতির মুখে পড়েছে ভ্যাট আদায়। আলোচ্য সময়ে ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩১ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা। এই সময়ে ভ্যাট আদায় হয়েছে ১৭ হাজার ৬৬৪ কোটি টাকা। আর ভ্যাটে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাইনাস ২১ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এ ছাড়া কাস্টমসে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৬ হাজার ৫৪৮ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৭ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ বছরের প্রথম দুই মাসে কাস্টমস খাতে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাড়িয়েছে ৮ হাজার ৭৭৩ কোটি টাকা। আর প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ১৪ শতাংশ। তবে বিপরীতমুখী ছিল শুধু এনবিআরের আয়কর অনুবিভাগ। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে আয়কর খাতের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২২ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে আয়কর আদায় হয়েছে ১৬ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ আয়কর খাতে ঘাটতির পরিমাণ দাড়িয়েছে ৬ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা। ঘাটতি থাকলেও অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে আয়কর খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ৬৪ শতাংশ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনবিআরের ভ্যাট বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য সৈয়দ মুসফিকুর রহমান বলেন, সাধারণত রিটার্নের সঙ্গে ভ্যাটের টাকা আসে। বাধ্যবাধকতা না থাকায় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো রিটার্ন এখনো জমা দেয়নি। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে আমরা প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার ভ্যাট আসত। এ ছাড়া টোবাকোর কারণে আমরা প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা কম রাজস্ব পেয়েছি। এখানেই অর্থাৎ বড় বড় প্রতিষ্ঠানের ৩ হাজার ৬০০ কোটি ভ্যাট আমরা এখনো পাইনি। যার কারণে ভ্যাট আহরণে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ ছাড়া সারা দেশে তিন মাস অন্তর ভ্যাট রিটার্নের নিয়ম থাকায় অনেকে এখনো ভ্যাটের টাকা জমা দেননি, যার প্রভাব পড়েছে ভ্যাট আদায়ে বলেও জানান এনবিআরের এই ঊর্ধতন কর্মকর্তা।
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স